শিয়াদের অভিমত
(১ম পর্বের পর থেকে.. লিংক: https://wp.me/pgP0Ho-34)
এক্ষেত্রে শিয়ারা একমতের উপর স্থির নয় বরং তাদের থেকেই বের হয়েছে একাধিক মত। অবশ্য তা দুটি অভিমতের মধ্যে চলে আসে।
প্রথম অভিমত
শিয়া শব্দের আবির্ভাব রূহ জগতের থেকেই। কুলায়নি ৫ম ইমাম মুহাম্মদ আল বাকির থেকে বর্ণনা করেন: নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা আমাদের শিয়াদের থেকে আমাদের বেলায়েত বা শাসনের ব্যাপারে তখনই অঙ্গীকার নিয়েছিলেন, যখন তারা বীজ বা অণুরূপে ছিল। যেদিন আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিজীবের কাছে তার প্রভুত্ব এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের অঙ্গীকার নিয়েছিলেন, সেদিন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনেই তার উম্মতকে মাটির আকারে ছাঁয়ার রূপে প্রদর্শন করেছিলেন এবং তাদের সেই মাটির রূপে সৃষ্টি করেছিলেন, যে মাটি থেকে আদমকে সৃষ্টি করেছিলেন। আল্লাহ তায়ালা শিয়াদের রূহ তাদের শরীরি আবয়ব সৃষ্টির দুই হাজার বছর পূর্বে সৃষ্টি করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে পেশ করেছিলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখনই তাদের ও আলি রাদি.-কে চিনতেন। আর আমরা তাদের কথার সুর থেকেই চিনতে পারি।[1]
প্রত্যেক নবিই আলি রাদি. এর বেলায়েত বা তার শাসনক্ষমতার স্বীকৃতি দিয়েই নবুওয়াত পেয়েছে। কুলায়নি ৮ম ইমাম দ্বিতীয় আবুল আবুল হাসান তথা আলি রেযা থেকে বর্ণনা করেন:আলি আ. এর বেলায়েত সমস্ত সমস্ত নবিদের সহিফায় লিপিবদ্ধ। আল্লাহ তায়ালা কোনো নবি কিংবা রাসুলকে প্রেরণ করেনি, যতক্ষণ না তারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত এবং আলি আলাইহিস সালামের ওসিয়তের স্বীকৃতি না দিয়েছে।[2]
আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: হে আলি! আল্লাহ তায়ালা কোনো নবিকে ততক্ষণ অবধি পাঠান নি, যতক্ষণ না তারা তোমার বেলায়েত ও ইমামত তথা শাসনক্ষমতার স্বীকৃতি না দিয়েছে; হোক ইচ্ছাকৃত কিংবা অনিচ্ছাকৃত।[3] তারা এ দাবিও করে যে, মেরাজের রাত্রে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সমস্ত নবিদের একত্রিত করেন। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সমস্ত নবিকে জিজ্ঞেস করেন: আপনাদের কেনো প্রেরণ করা হয়েছে? তারা বলেন: আমরা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর সাক্ষি আর আপনার রিসালাত ও আলির বেলায়েতের স্বীকৃতি আদায়ের জন্য প্রেরিত হয়েছি। এটাই আলি রাদি. এর বেলায়েতের সুস্পষ্ট দলিল।[4] এ ছাড়া আল কাফি, বিহারুল আনোয়ার, মুসতাদরাকুল ওসায়েল, আল ওয়াফি, ইলালুশ শারায়ে, আল খিসাল, ওসায়িলুশ শিয়া, আল ফুসুলুল মুহিম্মাসহ অন্যান্য হাদিসের কিতাব এবং তাফসিরে কুম্মি, তাফসিরে আইয়াশি, তাফসিরে সাফি, তাফসিরে ফুরাত, আল বুরহান ফি তাফসিরিল কুরআনসহ সমস্ত তাফসিরের কিতাবেও এ জাতীয় বর্ণনা ভরপুর; যার সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যাবে।
পর্যালোচনা
অথচ কুরআন দ্বারা সুস্পষ্ট যে, এসব বর্ণনা ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং কুরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কেননা আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক নবিকে প্রেরণের উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট বলে দিয়েছেন যে,
وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ
আমি আপনার পূর্বে এমন কোনো রাসুল পাঠাইনি, যার প্রতি এ ওহি পাঠাইনি যে, আমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। সুতরাং আমারই ইবাদত করো।[5]
অনুরূপ আল্লাহ তায়ালা বলেন:
وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ
নিশ্চয় আমি প্রত্যেক উম্মতের কাছে মধ্যে কোনো না কোনো রাসুল পাঠিয়েছি এ বার্তা দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে পরিহর করো।[6]
এরদ্বারা সুস্পষ্ট যে, প্রত্যেক নবি ও রাসুলের দায়িত্ব ছিল তাওহিদের দিকে আহ্বান এবং শিরক পরিত্যাগের দাওয়াত দেওয়া। পক্ষান্তরে আলি রাদি. এর বেলায়েত যদি এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ হতো যে, সমস্ত নবির ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় এ স্বীকৃতি প্রদান করতে হয়েছে, তবে সেটা কি কুরআনে উল্লেখ থাকবে না?
ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন: পূর্ববর্তী নবিদের কিতাব—যা মানুষের হেদায়েতের জন্য নাযিল হয়েছে—সেখানে আলি রাদি. এর বেলায়েতের কোনো আলোচনা নেই। যদি থাকতই, তবে যেসব আহলে কিতাব মুসলমান হয়েছিলেন; তারা এ কথা ঠিকই উল্লেখ করতেন। ফলে এ কথা বলা কিভাবে জায়েয হতে পারে যে নবিদের আলি রাদি. এর বেলায়েতের স্বীকৃতি দিয়ে পাঠিয়েছেন? অথচ তারা তাদের উম্মতদের কাছে এটা বলেন নি, আর সে উম্মতের কেউ এটা উল্লেখ করেন নি?[7] কাজেই বুঝা গেল এটা সুস্পষ্ট মিথ্যা, অপবাদ ও নবিদের শানে অবমাননা। যা পরিপূর্ণ বাতিল।
যাইহোক উপরোক্ত হাদিস সমুহ থেকে এটা সুস্পষ্ট যে, শিয়াদের দাবিমতে শিয়াবাদের উঃপত্তি পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বে; বরং রুহ জগতে।
দ্বিতীয় অভিমত
পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কিছু রাফেযির মতে শিয়াবাদের উদ্ভব রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকে। এবং রাসুলের যুগেই সাহাবাদের মধ্যে কিছু শিয়ানে আলি বা আলি রাদি.-এর অনুসারী ছিলেন।
কুম্মি বলেন: শিয়াদের প্রথম দল আলি ইবনে আবু তালেবের দল। যারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এ নামে পরিচিত হয়েছিলেন এবং তার ইন্তেকালের পরেও সবার থেকে বিচ্ছিন্নতা অবলম্বন করে আলি রাদি. এর ইমামতের কথা বলেন। তারা ছিলেন মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ কিন্দি, সালমান ফারসি, আবু যর গিফারি এবং আম্মার বিন ইয়াসির। এই উম্মাহর মধ্যে তারাই সর্বপ্রথম শিয়া উপাধিতে ভূষিত হন।[8] আলে কাশেফুল গিতা আরো প্রায় ৩৫ জন সাহাবার নাম উল্লেখ করেছেন।[9] নাওবাখতিও কুম্মির মত পোষণ করেন, তবে তিনি বলেন: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর এ দলের সৃষ্টি, জীবিতকালে নয়।[10]
সাম্প্রতিকালীন শিয়া আলেমদের অন্যতম মুহাম্মদ হুসাইন আলে কাশেফুল গিতা[11] বলেন: “শিয়াবাদের বীজ প্রথম যে বাগানে রোপিত হয়েছিল, সেটি করেছিলেন স্বয়ং শরিয়তের প্রবর্তক মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অর্থাৎ ইসলামের বীজের সঙ্গে সঙ্গে পাশাপাশি শিয়াবাদের বীজও রোপিত হয়েছিল।[12] আর সেই রোপনকারী নিজেই তা পরিচর্যা করতেন ও সেচ দিতেন। ফলে তা তার জীবদ্দশায়ই অঙ্কুরিত হয়ে বৃদ্ধি পায় ও বিকশিত হয়। আর তার ইন্তেকালের পর তা ফলপ্রসূ হয়।[13] একই অভিমত সমকালীন শিয়া আলেমদের বড় একটি দলের। যেমন: মুহসিন আমিন আমেলি, মুহাম্মদ জাওয়াদ মুগনিয়াহ, হাশিম মারুফ আল হাসানি, ড. আহমাদ আল ওয়ায়িলি, আলি আয-যাইন, মুহাম্মদ ইবনে মাহদি আল হুসাইনি আস-সিরাজি, আহমাদ তুফফাহা, বাকের আস-সদর ও মুহাম্মদ হুসাইন মুজাফফর প্রমুখদের।[14]
পর্যালোচনা
মূলত কুরআন ও হাদিসে এ মতের কোনো ভিত্তি নেই। বরং সুস্পষ্ট যে, এ মত কুরআন ও সু্ন্নাহ বিবর্জিত। কেননা রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসেছেন উম্মহকে একত্রিত করার জন্য, কোনো দলাদলি কিংবা বিভক্তির জন্য নয়। আমরা যদি এ দাবি মানতে যাই, তবে আবশ্যিকভাবেই রাসুলের আগমন ও উপস্থিতিকে ছোট করা হয়। কেননা তিনি তিন বা চারজনের ক্ষুদ্র একটা দল ছাড়া কাউকে দিয়েই ইসলাম মানাতে পারেন নি, অথচ বৃহৎ একটা দল ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই তার দীর্ঘ সহচর্য লাভ করেছে। অর্থাৎ তার সময়ই তার দাওয়াত গ্রহণকারী প্রত্যেকেই তার বিরোধি ছিল। এবং তিনি যে ইসলাম প্রচার করেছেন, তার পাশাপাশি আরো একটি মতবাদ বিশেষভাবে আলি রাদি.-কে দিয়েছেন। যাকে আমরা শিয়া বলে চিনে থাকি। অথচ কুরআন বলে: إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّهِ الإِسْلاَمُ আল্লাহ তায়ালার কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য ধর্ম ইসলাম।[15] তিনি আরো বলেন: وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الإِسْلاَمِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্যকোনো দ্বীন কামনা করবে, আল্লাহ তায়ালার কাছে কোনোদিনও গৃহিত হবে না।[16] রাসুল যদি ইসলামের সঙ্গে শিয়াবাদের বীজ রোপণই করেন, তবে তা অবশ্যই তা আল্লাহ তায়ালার কাছে গৃহিত হওয়ার কথা। অথচ সে ঘোষণা তো আমরা জানতে পারলাম না। বোঝা গেল, রাসুলের যুগে শিয়াবাদের উৎপত্তি; কথাটি সর্বত মিথ্যা; বরং রাসুলের উপর অপবাদও।
তাছাড়া তারা যেসব সাহাবাকে শিয়া বলে সাব্যস্ত করেছে, তারা কি বর্তমান যুগের শিয়াদের আকিদা লালন করতেন? শাইখাইন রাদি.-দের কাফের বলতেন? সাহাবাদের গালি দিতেন? কুরআন বিকৃতিতে বিশ্বাস করতেন? এমন কোনো বিষয় তারা বিশুদ্ধ সনেদে দেখাতে পারবে?
এ সম্পর্কে শিয়া যায়েদি ফিরকার আলেম ইবনুল মুরতাজা বড় চমৎকার কথা বলেছেন: যদি তারা দাবি করে যে আম্মার, আবু যার গিফারি, মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ এবং সালমান ফারসি তাদের পূর্বসূরি—আলীর ইমামত স্বীকার করার কারণে—তবে সুস্পষ্টভাবেই তাদের মিথ্যাচার প্রমাণিত হয়ে যায়। কেননা তাদের কারো থেকেই শায়খাইন তথা আবু বকর ও উমর রাদি.-দের ব্যাপারে বারাআত বা মুক্ততা ঘোষণা কিংবা গালি প্রকাশ পায়নি। তুমি কি দেখ না যে আম্মার ছিলেন উমর ইবনুল খাত্তাবের কুফায় নিযুক্ত কর্মচারী আর সালমান ফারসি মাদাইন শহরের গভর্ণর?[17]
এ ছাড়া ইবনে নাদিম আল ফিহরিস্তের মধ্যে শিয়াবাদের সূচনা জঙ্গে জামাল থেকে বলেছেন। কিন্তু এ মত শিয়ারাই প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই উল্লেখ করার প্রয়োজন মনে করছি না।
চলবে….
[1] আল কাফি: ১/৪৩৮
[2] আল কাফি: ১/৪৩৭
[3] মাজলিসি; বিহারুল আনোয়ার: ১১/৬০; এ বর্ণনাটি মুহাম্মদ ইবনে হাসান আস-সিফারের বাসায়িরুদ্দারাজাত এবং শায়েখ মুফিদ আল ইখতিসাসের মধ্যে এনেছেন।
[4] মিনহাজুল কারামাহ: ১৩০-১৩১ পৃ.।
[5] সুরা আম্বিয়া: ২১: ২৫
[6] সুরা নাহল: ১৬: ৩৬
[7] ইবনে তাইমিয়া: মিনহাজুস সুন্নাহ: ৭/১৭০
[8] কুম্মি: আল মাকালাত ওয়াল ফিরাক: ১৫ পৃ.।
[9] আসলুশ শিয়াতি ওয়া উসুলিহা: ৭৫-৮১ পৃ.।
[10] নাওবাখতি: ফিরাকুশ শিয়া: ৩১ পৃ.।
[11] আলে কাশেফুল গিতা ইরাকের বিখ্যাত একটি শিয়া আলেম পরিবার এবং নাজফ শহরের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জগতের অন্যতম প্রভাবশালী। এ পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা জাফর বিন খিজির আল জুনাবি আন-নাজফি। যিনি ফকিহ ও মুজতাহিদ হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। ফিকাহ ও ইজতিহাদের উপর তার বিখ্যাত কিতাব কাশফুল গিতা আন মুবহামাতিশ-শারিয়াতিল গাররা। মূলত এখান থেকেই তিনি কাশেফুল গিতা নামে পরিচিত হন। তার বংশধর থেকে বহু ব্যক্তি শিয়া জগতে হাদিস, ফিকাহ, কালাম ও আকায়েদে শাস্ত্রে অবদান রাখেন। এজন্যই শিয়াবিশ্ব তাদের আলে বাহরুল উলুম, আলে সদর, আলে হাকিম ও আলে উলামায়ে উসরা—নামে গণ্য করে থাকে। এ পরিবারেরই অন্যতম একজন ব্যক্তি হলেন: মুহাম্মদ আল হুসাইন কাশেফুল গিতা (১৮৭৭-১৯৫৪)। তিনি শিয়াদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় পদবি আয়াতুল উজমা উপাধিতে প্রসিদ্ধ ছিলেন। ইরাকের মারজায়ে তাকলিদ ছিলেন। তার লেখিত ৮০টির মতো কিতাব রয়েছে, যা শিয়াদের পথপ্রদর্শন করেন।
[12] লক্ষণীয় একটি বিষয় হলো আলে কাশেফুল গিতার মতো একজন মান্যবর ব্যক্তি নিজেই স্বীকার করলেন: শিয়াবাদের বীজ ইসলামের বিপরীতে পাশাপাশি বেড়ে উঠেছে। অর্থাৎ এ মতবাদের সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। এবং শিয়াবাদ যে ইসলাম না; সেটা তিনি আরো কয়েক পৃষ্ঠা পরই স্পষ্ট করেন যে, “আবু বকর, উমর ও উসমানের যুগে শিয়া ও শিয়াপন্থার প্রকাশের কোনো সুযোগ ছিল না। কেননা ইসলাম তখনও তার সঠিক ও সোজা পথে অটল ছিল।” এরদ্বারা বুঝা যায় শিয়াবাদ ও ইসলাম ভিন্ন দুটো পথ। এবং ইসলাম শক্তিশালী থাকাকালীন এ মতের কোনো উদ্ভবই হয়েছিল না। তিন খলিফার পর আবদুল্লাহ বিন সাবার প্রোপাগণ্ডায় সাহাবাদের মধ্যে মতবিরোধের সুযোগে এর জন্ম হয়।
[13] আসলুশ শিয়াতি ওয়া উসুলিহা: ১১৮ পৃ.।
[14] তথ্য সহযোগিতা: ড. নাসির ইবনে আবদুল্লাহ আল কিফারি; উসুলু মাজহাবিশ শিয়াতিল ইমামিয়্যাতিল ইসনা আশারিয়্যাহ আরদুন ওয়া নাকদুন: ৬৫।
[15] সুরা আল ইমরান: ৩:১৯
[16] সুরা আল ইমরান: ৩:৮৫
[17] আল মুনইয়াতু ওয়াল আমল: ১২৪-১২৫, সূত্র: উসুলু মাযহাবিশ শিয়া: ৬৭।


Leave a comment