শিয়াদের সঙ্গে আমাদের আকিদার মূল বিরোধ ইমামত নিয়ে। আমাদের আকিদা ও বিশ্বাস রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর সাহাবায়ে কিরামের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তমতে হযরত আবু বকর রাদি. খলিফা হয়েছেন। এরপর পর্যায়ক্রমে হযরত উমর, উসমান ও আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুম। কিন্তু শিয়াদের বিশ্বাস রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলি রাদি.-কে আল্লাহর নির্দেশে খলিফা নির্ধারণ করেছেন এবং তাকে খেলাফতের অছিয়ত করেছেন। কিন্তু সাহাবারা রাসুলের সে নির্দেশ না মেনে আবু বকর, উমর ও উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের খলিফা বানানোর কারণে কাফের হয়ে গেছে। আর খলিফারাতো বড় কাফের।
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো আলি রাদি.কে যে রাসুল খেলাফতের অছিয়ত করেছেন, তা ৩২ হিজরিতে ইসলাম গ্রহণকারী ইয়াহুদি আবদুল্লাহ বিন সাবার আগে কেউ জানত না। শিয়াদের অসংখ্য কিতাবে রয়েছে, আবদুল্লাহ বিন সাবা ইয়াহুদি ছিল। ইসলাম গ্রহণের আগে সে ইউশা বিন নুনকে মুসা আ. এর ওয়াসি বলত আর ইসলাম গ্রহণের পর হযরত আলি রাদি.-কে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওয়াসি বলে। এবং সেই সর্বপ্রথম ব্যক্তি যে রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে আত্মীয়তার ভিত্তিতে আলি রাদি.-কে খলিফা ও ইমাম বলে দাবি করেছিল আর তার পূর্ববর্তী খলিফাদের খেলাফত ছিনতাইকারী ও শত্রু হিসেবে সাব্যস্ত করে তাদের গালাগালি করেছিল।
কাজেই আলি রাদি. খেলাফতের অছিয়তকৃত ব্যক্তি ও রাসুলের পরের খলিফা এবং অন্যান্য সাহাবা কাফের—এটা আবদুল্লাহ বিন সাবার বানানো আকিদা। যে মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য কৌশল হিসেবে ইসলামের লেবাস পড়েছিল এবং আড়ালে থেকে কুটচালের মাধ্যমে উসমান রাদি. এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করিয়ে তাকে মজলুম অবস্থায় শহিদ করিয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে তার শাহাদাতকে কেন্দ্র করে সাহাবাদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করে জঙ্গে জামাল ও জঙ্গে সিফফিন নামক বড় দুটো যুদ্ধ বাধিয়েছিল। বর্তমান শিয়ারা যে আকিদা ও বিশ্বাস লালন করে, তা মূলত আবদুল্লা্হ বিন সাবার আকিদা। এই আবদুল্লাহ বিন সাবা কেবল আলি রাদি.-এর ইমামতের প্রবক্তাই ছিল না, বরং তাকে আল্লাহ অবধি বলেছিল। তাই আলি রাদি. তার অনুসারীদের জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছিলেন আর সাবা পুত্রকে মাদায়নে নির্বাসন দিয়েছিলেন।
এই প্রবন্ধে আমরা দেখাবো যে, আবদুল্লাহ বিন সাবার বানানো সে ইমামত আকিদাকে টেনে হিচড়ে শিয়ারা আরো কতটুকু কুফরি পর্যন্ত নিয়েছে। পাঠক! তাদের এই মৌলিক আকিদা পড়ে আপনিই চিন্তা করুন এবং বিভেদের জায়গা চিহ্নিত করুন। আশাকরি সহজেই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারবেন। আল্লাহ তায়ালা তাওফিক দান করুন।
ইমামদের কিছু গুন
- ইমাম গুনাবলীর দিক থেকে হুবাহু রাসুলের মতো হবে। মুহাম্মদ রিযা আল মুযাফফর আকায়িদুল ইমামিয়্যাহ ৫৬ পৃষ্ঠায় বলেন: “ونعتقد ان الإمام كالنبي يجب ان يكون معصوماً” আমরা বিশ্বাস করি যে ইমামের জন্য নবির মতো নিষ্পাপ হওয়া আবশ্যক। রেযা মুজাফফর মুহসিন আল খারাজির লেকচার সংকলন করেছেন, যা বিদায়াতুল মা’আরিফিল ইলাহিয়্যাহ নামে পরিচিত। সে কিতাবের ১/২৪৮ পৃ. একই কথা এসেছে। আর ২/১১ লিখেছে:
كما انه (أي الإمام) يتصف بصفات النبي أيضاً لكونه خليفةَ له، فان كان النبيُ معصوماً فهو أيضاً معصوم…. وهكذا فالإمام يقوم مقام النبي في جميع صفاته عدا كونِه نبياً
[ইমাম নবীর গুণাবলীও ধারণ করেন। কারণ তিনি তার উত্তরাধিকারী। তাই যদি নবী নিষ্পাপ হন তবে তিনিও নিষ্পাপ হবেন। (…) এভাবে ইমাম নবী হওয়া ছাড়া তার সকল গুণাবলীতে নবীর স্থান গ্রহণ করেন।
রেজা মুজাফফর আকায়িদুল ইমামিয়্যায় আরো বলেন যে: يجب أن يكون الإمام مشابهاً للرسول – صلى الله عليه وسلم – تماما ইমাম সর্বদিক থেকে রাসুলের মতো হওয়া আবশ্যক।
আয়াতুল্লাহ আলি আল মিলানি আল ই’সমা—গ্রন্থে ইমামদের সম্পর্কে আলোচনাকালে ৩৫ পৃ. লেখে: “وأمثال هذه الادلة تدل على عصمة أئمتنا حتى من السهو والنسيان والخطأ والغلط ”এই ধরণের উদাহরণ প্রমাণ করে যে আমাদের ইমামগণ মাসুম এমনকি ভুল ভ্রান্তি ও ত্রুটি বিচ্যুতি থেকেও পবিত্র।
মোল্লা বাকের মাজলিসি “বিহারুল আনওয়ারের” ১৭/১০৮ ও ২৫/৩৫০ এ বলেন:
“ইমামি শিয়ারা নবী ও ইমামদের নিষ্পাপত্ব সম্পর্কে একমত। তাদের ছোট ও বড় পাপ—চাই তা ইচ্ছাকৃত হোক বা ভুলবশত; নবুয়্যত ও ইমামতের আগে হোক বা পরে—মোটকথা তারা জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি সমস্ত গুনাহ থেকে মুক্ত।” রুহুল্লাহ খোমিনি আল হুকুমাতুল ইসলামিয়্যার ৯১ পৃ. লেখেন: لا نتصور فيهم السهو والغفلة আমরা ইমামদের থেকে ভুল কিংবা অসাবধানতা কল্পনাও করি না।
বাঙালি শিয়াদের কাছে অনূদিত সর্ববৃহৎ হাদিসগ্রন্থ মিযানুল হিকমাহ—এর ৪৯ পৃ. রয়েছে: ইমামের আনুগত্য ফরজ করা হয়েছে। আর সে ইমামের কতৃত্বের প্রধান সীমাগুলো হলো এটি জানা (মানে তাদের সম্পর্কে এ আকিদা রাখা) তিনি এুটি, পদস্খলন, ইচ্ছাকৃত ভুল এবং ছোট বা বড় সব ধরণের গুনাহ থেকে নিস্পাপ। তিনি ভুল করেন না আর না তিনি কোনো গুনাহ করেন। এবং তিনি ধর্মের জন্য বিপদজনক কোনো বিষয়কে এড়িয়ে যান না আর না তিনি কোনোকিছুর প্রতি অমনোযোগী থাকেন। তিনি আল্লাহর নির্ধারিত হালাল, হারাম, ফরজ, সুন্নাত ও বিধানগুলোর বিষয়ে সবার কাছে অমুখাপেক্ষি থাকেন, কিন্তু অন্য সবাই তার মুখাপেক্ষী থাকে।
(উল্লেখ্য: শিয়াদের হাদিসের কিতাব আমাদের হাদিসের কিতাবের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমাদের হাদিস রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, আর শিয়াদের হাদিস রাসুল নয়—বরং তাদের ইমামদের থেকে বর্ণিত। অর্থাৎ তারা রাসুলকতৃক আনিত শরিয়ত মানেন না বরং ইমামদের নামে বানানো শরিয়ত মেনে থাকে।)
- এই ইমামতের ব্যপারে তেমনই বিশ্বাসই স্থাপন করতে হবে, যে বিশ্বাস রাখতে হয় তাওহিদ ও নবুওয়াতের ক্ষেত্রে। এ সম্পর্কেই আকায়িদুল ইমামিয়ার ৫৪ পৃ.রয়েছে যে, “ يجب النظرُ فيها كما يجب النظرُ فى التوحيد والنبوة من الله تعالى” ইমামতের ক্ষেত্রে আকিদার দৃষ্টিভঙ্গি তেমনই হবে, যেমন হয় আল্লাহ তায়ালার একত্মবাদ ও নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের ক্ষেত্রে। অর্থাৎ ইমামত তাওহিদ ও রিসালতের মতোই অকাট্ট আকিদা।
‘মীজানুল হিকমাহ’—গ্রন্থের ৪৫ পৃ. রয়েছে: ইসলামের মূলভিত্তি ৫টি। নামাজ, রোযা, যাকাত, হজ ও বেলায়াত বা ঐশি অভিভাকত্ব তথা ইমামত। এরমধ্যে বেলায়েতের দিকে আহ্বানের মতো আর কোনো বিষয়েই আহ্বান করা হয় নি। অর্থাৎ, তাওহীদ, রিসালাত, নামাজ, রোযা কিছুই ইসলামের মূল স্তম্ভ হতে পারে নি ইমামত ছাড়া। এই বর্ণনা শিয়াদের প্রতিটি হাদিসের কিতাবেই রয়েছে।
- ইমামরা অতীত এবং ভবিষ্যতের সমস্ত ইলম রাখেন। এ বিষয়ে উসুলুল কাফির কিতাবুল হুজ্জায় একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়ই রয়েছে যে, “ أن الأئمة عليه السلام يعلمون علم ما كان وما يكون وانه لا يخفى عليهم الشيئ ” ‘ইমামগণ ভবিষ্যতের খবর জানেন, কোনো কিছুই তাদের দৃষ্টি থেকে উদাও হতে পারে না।’ এ অধ্যায় শুরু হয়েছে ২৫৯ পৃ. থেকে। এ অধ্যায়ের প্রথম হাদিস অর্থাৎ ২৫৯-৬০ পৃ. জাফর সাদিকের একটি বর্ণনা রয়েছে যে, আমি যদি মুসা ও খিযিরের মধ্যে হতাম, তবে তাদেরকে বলতাম যে, আমি তাদের উভয়ের চেয়ে বেশী জ্ঞান রাখি এবং তারা যা জানত না, আমি সে সম্পর্কে তাদের অবহিত করতাম। কেননা মুসা ও খিযির কেবল অতীতের জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়েছিলেন, ভবিষ্যতে কিয়ামত পর্যন্ত যা হওয়ার—সে জ্ঞান তাদের দেওয়া হয় নি। আমরা এগুলো উত্তরাধিকারসুত্রে রাসুল থেকে পেয়েছি।
- ইমামদের কাছে তাওরাত, যাবুর ও ইঞ্জিল মূল ভাষায় অবিকৃত অবস্থায় রয়েছে। তারা এগুলো মূল ভাষায়ই পাঠ করেন। এ সম্পর্কে আল কাফির ১৩৫ পৃ. থেকে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় রয়েছে। “باب أن الأئمة عندهم جميع الكتب اللتى نزلت من عند الله عزوجل وانهم يعرفونها على إختلاف ألسنتها” ইমামদের কাছে রয়েছে সমস্ত আসমানি কিতাব যা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নাযিল হয়েছে। তারা সে কিতাব সম্পর্কে জ্ঞাত ভাষা ভিন্নতা সত্ত্বেও। উসুলুল কাফিতে এ সম্পর্কিত আরো অনেক অধ্যায় রয়েছে।
বাঙালিদের কাছে অনূদিত হাদিসের কিতাব মীযানুল হিকমাহ ৬৩ পৃ. হযরত আলি রাদি. এর জ্ঞান সম্পর্কিত অধ্যায়ে রয়েছে: হযরত আলি রাদি. বলেন: হে উপস্থিত জনগণ! আমাকে প্রশ্ন করো আমাকে হারানোর আগে। আমাকে প্রশ্ন করো, নিশ্চয় আমার কাছে সবচেয়ে প্রথম ও সবচেয়ে শেষর জ্ঞান রয়েছে। আল্লাহর শপথ! আমাকে যদি তাওরাতের অনুসারীদের মধ্যে বিচার করতে হয়, তবে আমি তাওরাতের মাধ্যমে বিচার করব।
- ইমামরা কে জান্নাতে যাবে আর কে জাহান্নামে যাবে—তা নির্ধারণকারী। উসুলুল কাফিতে আলি রাদি. সম্পর্কে বর্ণিত যে, তিনিই প্রায়ই বলতেন, আমি আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যে বন্টনকারী।
মিযানুল হিকমাহের ৬৫ পৃ. রয়েছে: আমি আল্লাহর মনোনীত জান্নাত ও জাহান্নাম বন্টনকারী। কেউ তাতে প্রবেশ করবে না—আমি তা বন্টন করা ছাড়া।
- ইমামদের মর্যাদা সমস্ত নবিদের চেয়ে বেশি এবং রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমান। উসুলুল কাফি, বিহারুল আনোয়ারসহ তাদের মৌলিক গ্রন্থে এ সম্পর্কে অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে। খোদ খোমিনি হুকুমাতুল ইসলামিয়্যার ৫২ পৃ. উল্লেখ করেন: وإن من ضروريات مذهبنا أن لأئمتنا مقاما لا يبلغه ملك مقرب ولا نبي مرسل ইসনা আশারিয়া মাজহাবের জরুরি আকিদার অন্যতম এই যে, আমাদের ইমামগণের এমন মর্যাদা ও স্তর রয়েছে, যে পর্যন্ত কোনো নৈকট্যশীল ফেরেশতা এবং নবি-রাসুলও পৌঁছাতে পারে না। সামনেই এ বিষয়ে ইমামদের উদ্ধৃতিও উল্লেখ করেছে: “ وأن لنا مع الله حالات لا يسعها ملك مقرب ولا نبى مرسل ” আর আমাদের সঙ্গে আল্লাহর এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়< যে অবধি না কোনো নৈকট্যশীল ফেরেশতা পৌঁছাতে পারে আর না কোনো নবি রাসুল।
মিযানুল হিকমাহ: ৪৫ পৃ. একটি অধ্যায়ের শিরোনামই এনেছেন “নবুওয়াতের ওপর ইমামতের শ্রেষ্ঠত্ব।” এরপর জাফর সাদিক থেকে বর্ণনা করেন: নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা ইবরাহিম আ. কে নবি হিসেবে গ্রহণ করার পূর্বে দাস হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। এবং তাকে তাকে রাসুল হিসেবে গ্রহণ করার পূর্বে নবি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তাকে খলিল হিসেবে গ্রহণ করার পূর্বে রাসুল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আর তাকে ইমাম হিসাবে গ্রহণ করার পূর্বে খলিলরূপে গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ আলি রাদি. থেকে শুরু করে তাদের ১২ ইমাম বান্দা, নবি, রাসুল ও খলিলের স্তর পর হয়ে ইমাম হয়েছেন। তাই তাদের মর্যাদা সমস্ত নবি রাসুলের চেয়েও উর্ধে।
- মোল্লা বাকের মাজলিসি আল কাফির ব্যাখ্যাগ্রন্থ মিরাআতুল উকুলে ২/৩১১ লেখেন: কেউ যদি একজন ইমামকে অস্বীকার করেন, তবে সকল নবীতে বিশ্বাস স্থাপন করলেও তার কোনো উপকার আসবে না।
বিহারুল আনোয়ার ৮/৩৬৬ পৃ. এই বিষয়টিই উল্লেখ করে জাফর সাদিক থেকে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের ব্যাপারে একটি ফতোয়াও নকল করে। من شك في كفر أعدائنا والظالمين لنا فهو كافر কেউ যদি আমাদের শত্রু তথা আহলুস সুন্নাতের কুফুরি কিংবা আমাদের উপর কৃত যুলুম তথা খেলাফত ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে, তবে সে কাফের। আমেলি আল ইনতিসার গ্রন্থের ৯/১২৪ পৃ. একই কথা উল্লেখ করেছে।
আল হাদায়েকুন নাদিরাহ ১৮/১৫৩ রয়েছে: আল্লাহ ও তার রাসুলকে অস্বীকার করা আর ইমামদের অস্বীকার করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
এই শিয়া মুহাদ্দিসরা শুধু যে আমাদের কাফের বলেছে তা নয়, বরং সাহাবায়ে কিরামকেও কাফের বলেছে। মাজলিসি বিহারুল আনোয়ারের ২৩/৩৯০ পৃ. লেখে: কুফুর ও শিরিক শব্দটি তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য অর্থাৎ তারাই কাফের ও মুশরিক, যারা আমিরুল মুমিনিন আলাইহিস সালাম ও তার পরবর্তী সন্তানদের ইমামতে বিশ্বাস রাখে নি। এরা চিরস্থায়ী জাহান্নামী।
- তানকিহুল মাকালে রয়েছে: কেউ যদি ১২ ইমামে অবিশ্বাসী হয়, কিয়ামতের দিন তার উপর কাফের ও মুশরেকের হুকুম প্রযোজ্য হবে। ইবনে বাবওয়াই কুম্মি রিসালাতুল ইতিকাদ গ্রন্থে এ সম্পর্কে অনেক বর্ণনা এনেছেন।
- একজন নবিকে অস্বীকার করলে যেমন জাহান্নামে যাবে, তেমনই একজন ইমামকে অস্বীকার করলেও জাহান্নামে যাবে। শায়খ মুফিদ থেকে বিহারুল আনওয়ারের ২৩/৩৯০ এ সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে যে, ইমামি শিয়ারা এ সম্পর্কে একমত, যে ব্যক্তি কোন একজন ইমামের ইমামত অস্বীকার করে আল্লাহর ফরজকৃত বিধানকে প্রত্যাখ্যান করল, সে একজন বিপথগামী কাফির। যে চিরকাল জাহান্নামে থাকার যোগ্য।’
ঢাকা আলে রাসুল পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত ‘আশার আলো ইমাম মাহদী (আ.)—গ্রন্থের ৪৬ পৃ. এগারোতম ইমাম হাসান আসকারির থেকে পরবর্তী কাল্পনিক ইমাম—ইমাম মাহদি সম্পর্কে বর্ণনা করে: আমি দেখতে পাচ্ছি, তোমরা আমার উত্তরসূরির বিষয়ে বিরোধ করছ। জেনে রাখো! যে ব্যক্তি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরের ইমামদের প্রতি ঈমান পোষণ করে অথচ আমার সন্তানের ইমামতকে অস্বীকার করে, তার অবস্থা তো ঐ ব্যক্তির মতো যে সমস্ত নবির প্রতি ঈমান রাখে অথচ শেষ নবি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অস্বীকার করে। অর্থাৎ ইমামদের অস্বীকার করার সে বিধান—যে বিধান প্রজোয্য হয় নবি অস্বীকারের ক্ষেত্রে। আমরা তো শিয়াদের কোনো ইমামদের প্রতিই বিশ্বাস রাখি না—তাহলে আমরা তাদের দৃষ্টিতে কেমন হতে পারি!
- তুসি আল আমালির ৩০৮ পৃ. লেখে যে, যদি তোমাদের কেউ কিয়ামতের দিন পাহাড়ের মতো নেক আমল নিয়ে আসে কিন্তু আলীর বেলায়েত বা নবির পরের শাসকরূপে বিশ্বাস না করে তবে আল্লাহ তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।
পাঠক! এগুলো শিয়াদের ইমামত সম্পর্কিত আকিদা-বিশ্বাসের কয়েকটি মাত্র। সব আকিদা একত্রিত করলে কয়েক ভলিউমের কিতাব হয়ে যাবে। ইন শা আল্লাহ, আপনারা এখানে নজর রাখলে আরো অনেক জানতে পারবেন। সর্বশেষ আহ্বান থাকবে, এ সম্প্রদায়ের কুফুরি সম্পর্কে আপনি জানুন, অন্যকে জানান। আকিদা বিষয়ে নমনীয়তা নয়। কেননা কুফুরি আকিদা পোষণ করা যে অপরাধ, তা সমর্থন করা কিংবা কুফুরি জানা সত্ত্বেও নমনীয়তা অবলম্বন করা একই অপরাধ। আল্লাহ তায়ালা আমাদের হেফাজত করুন।


Leave a comment