শিয়াদের তাওহিদ লঙ্ঘন

(২য় পর্ব)

ঈমানের কালিমা

আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে যত নবি ও রাসুল পাঠিয়েছিলেন, প্রত্যেক নবি ও রাসুলের কালিমার দুটো অংশ ছিল। যেমন: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ আদম সফিউল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ নুহ নাবিয়্যুল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ইবরাহিম খালিলুল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ঈসা রুহুল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। কিন্তু শিয়ারা উক্ত কালিমায় রদবদল করে এবং পাঁচ অংশে বিশ্বাস করে। তারা বলে যে, আসল কালিমা তায়্যিবা হলো: “ لا اله الا الله محمد الرسول الله، علي ولي الله، وصي رسول الله وخليفة بلا فصل ” লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ, আলিয়্যুন ওলিউল্লাহ, ওসিয়্যু রাসুলিল্লাহ ওয়া খলিফাতু বিলা ফাসলিন। উক্ত কালিমাটি পাকিস্তানের শিয়া আলেম আবদুল করিম মুশতাক ‘শিয়া মাজহাব হক হে’ কিতাবের প্রচ্ছদেই উল্লেখ করেছে। উক্ত কিতাবে ‘সুন্নি কালিমা পর ই’তিবার নেহি’ তথা সুন্নি কালিমার ধর্তব্য নেই –শিরোনামের অধীনে লেখেন যে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ পড়লেই মানুষ মুসলমান হয় না। এ কালিমা ঈমানের দলিল হতে পারে না। রাসুলের যুগে সাহাবারাওতো এটা পড়েছে, অথচ আল্লাহ তায়ালা তাদের মুনাফেক বলেছেন। বর্তমান আহমাদি জামাত কাদিয়ানিরাওতো এ কালিমা পড়ে,[1] তা সত্ত্বেও তারা কাফের।[2]

বিশেষত এই লেখক ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ কালিমাটি কুরআন থেকে সাব্যস্ত না; তা দেখানোর চেষ্টা করেছে। তার দাবিমতে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ—দুটোই দুটো সুরার দুটো আয়াতের অংশ। যেখানে পূর্ণ আয়াত গ্রহণ না করে আংশিক গ্রহণ করা তাহরিফ। এক্ষেত্রে সে খুব রুক্ষ ভাষায় আহলুস সুন্নাহের অনুসারীদের আক্রমণ করেছে। এরপর সহিহুল বুখারিতে যে ইসলামের পঞ্চভিত্তির প্রথম ভিত্তি হিসেবে তাওহিদ ও রিসালাতের সাক্ষি রয়েছে। সেখানের হাদিসের পাঠ “ شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ ” শুরুতে শাহাদাহ এবং তাওহিদ ও রিসালাতের আগে أَنْ (আন) ও أَنَّ (আন্না) শব্দ এসেছে, তাই এটা কালিমা তায়্যিবা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ হিসেবে সাব্যস্ত হতে পারে না। অতএব কালিমাতুত তায়্যিবার ভিত্তিই নেই। এরপর তিনি দাবি করেন, এই কালিমা পড়ে মুসলমান সাব্যস্ত হলেও মুমিন হতে পারবে না। কেননা পরিপূর্ণ ঈমানের জন্য ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ’ এর সঙ্গে ‘আলিয়্যুন ওলিউল্লাহ’ শব্দে আলির বেলায়েতের সাক্ষি দিতে হবে। এরপর লেখক আহলুস সুন্নাহর কিতাব থেকে কালিমার এই তিন অংশের দলিল দিলেন। আমি দলিল প্রদানকারী কিতাব ও তার লেখকের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিলেই বুঝতে পারবেন, উক্ত লেখক কত বড় ধোঁকাবাজ। সে সর্বপ্রথম সালেহ চিশতি রচিত ‘মানাকিবে মুরতাযাবি’ গ্রন্থ থেকে আবু সাঈদ খুদরি রাদি. এর একটা হাদিস বর্ণনা করে যে, লোকজন ছয় ফরজের স্থানে পাঁচ ফরজের উপর আমল করে আরেক ফরজ ছেড়ে দেয়। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো সেটা কি? তিনি বললেন আলির বেলায়েতের সাক্ষি। এরপর সুলায়মান নকশবন্দিকে আহলুস সুন্নাহর ইমাম সাজিয়ে তার ‘ ينابع المودة ’ গ্রন্থ থেকে উল্লেখ  যে, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক সাহাবা থেকেই আলি রাদি. এর বেলায়েতের উপর বায়াত নিতেন। এরপর মুকাদ্দামা মিশকাতুল আনওয়ার ওয়া মিরয়াতুল আসরার গ্রন্থের বরাতে লেখেন বেলায়েতের অস্বীকৃতির সঙ্গে নবুওয়াতের স্বীকৃতির মধ্যে কোনো ফায়দা নেই। এরপর তাফসিরে নিশাপুরির রেফারেন্সে লেখে যে, মেরাজের রাতে সমস্ত নবিরা এ কথা সাক্ষি দিয়েছে যে, তাদের তিনটি কথার সাক্ষ্যর জন্য দুনিয়ায় প্রেরণ করা হয়েছে। তা হলো: لا اله الا الله محمد الرسول الله علي ولي الله । সর্বশেষ তারিখে ইবনে আসাকিরের বর্ণনায় একটি ঘটনা উল্লেখ করেছে: মুহাম্মদ ইবনে হাম্মাদ তেহরানি শামে যাওয়ার পথে বালকা অঞ্চলের এক পাহাড়ে ইবরানি ভাষায় একটি খোদাইকৃত লেখা দেখেন। পরে সেখানকার একবৃদ্ধকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান যে, এখানে লেখা রয়েছে: ‘হে আল্লাহ তোমার নামে শুরু করছি। হে আল্লাহ তোমার পক্ষ থেকে আরবি ভাষায় সত্য এসে পড়েছে। এরপর এই কালিমা লেখা: لا اله الا الله محمد الرسول الله علي ولي الله ।

পর্যালোচনা

শিয়াদের কালিমা বিষয়ক পর্যালোচনা একটু পরে উল্লেখ করছি। আগে লেখক আবদুল করিম মুশতাকের দাবির সততা দেখে আসি। তিনি দাবি করেছেন, ওসব লেখা আহলুস সুন্নাহর কিতাবে রয়েছে। এবং প্রত্যেক লেখকের নামের সঙ্গে ইমামু আহলিস সুন্নাহ  ও শেষে হানাফি লেখা। ফলে সাধারণ পাঠককতৃক অজ্ঞতার ফলে বিভ্রন্ত হওয়াই স্বাভাবিক। সে সর্বপ্রথম আবু সাঈদ খুদরি রাদি. এর একটি বর্ণনা এনেছে, যেটা লেখেছে আহলুস সুন্নাহর কথিত ইমাম মুহাম্মদ সালেহ আহমদ চিশতি। এই ব্যক্তি মূলত সুফি এবং রাফেজি। যে তাকিয়াবশত সুন্নি নাম ধারণ করে শিয়া কার্যক্রম চালাত। অনুরূপ সুলায়মান নকশবন্দি হানাফি—মূল কিতাবে তার নাম এসেছে সুলায়মান কুন্দুজি হানাফি; এ ব্যক্তিও সুফি ও শিয়া রাফেজি। তার লেখিত কিতাব ‘ ينابع المودة ’ গ্রন্থে কেবল শিয়াবাদেরই চর্চা করা হয়েছে। তৃতীত আমি ‘মুকাদ্দামা মিশকাতুল আনওয়ার ওয়া মিরয়াতুল আসরার’—যে গ্রন্থের আলোকে দাবি করা হয়েছে যে, বেলায়েতের অস্বীকারের সঙ্গে নবুওয়াতের স্বীকৃতির মধ্যে কোনো ফায়দা নেই। এ গ্রন্থের কোনো অস্তিত্ব পাই নি। অবশ্য শিয়াদের বহুল পরিচিত তাফসির গ্রন্থ—তাফসিরুল বুরহান—যার মূল নাম মিরয়তুল আনওয়ার ওয়া মিশকাতুল আসরার। শিয়া ভাইদের কাছে অনুরোধ, আপনারা এ গ্রন্থ প্রাপ্তির ব্যাপারে আমাকে সহযোগিতা করতে পারেন। চতুর্থত তাফসিরে নিশাপুর নামে সুন্নিদের যে গ্রন্থের কথা লেখক উল্লেখ করেছে, উক্ত তাফসির গ্রন্থের লেখক নিজামুদ্দীন নিশাপুরি। এই নিজামুদ্দীনের উস্তাদ ছিলেন নাসিরুদ্দীন তুসি। ইতিহাস সচেতনমাত্রই নাসিরুদ্দীন তুসিকে চিনে নিয়েছেন। এই ব্যক্তি ছিল ইসমাঈলি নিজারি ফিরকার। হাসান বিন সাব্বাহকতৃক নিজারি ফিরকার রাজত্ব ছিল আলমুত দূর্গে।[3] চেঙ্গিজ খানের পৌত্র হালাকু খান কতৃক আলমুত দূর্গ পতন হলে তুসি বন্দি হন এবং কিন্তু পরবর্তীতে মুক্তি লাভ করে হালাকু খানের ঘনিষ্ট ও তার নিত্যসঙ্গী হয়ে যান। আব্বাসি খেলাফহর পতনে তুসির বড় সহযোগিতা রয়েছে। এই ব্যক্তি ইসমাঈলি শিয়া থেকে পবর্তীতে ইসনা আশারিয়া শিয়া মত গ্রহণ করেন। তো ধারণা করুন, এমন মুসলিম বিদ্বেষী ব্যক্তি যার উস্তাদ; সে কেমন হতে পারে? মূলত উক্ত তাফসিরগ্রন্থের পিডিএফ কপি এতোটা ছোট ও অস্পষ্ট যে, তার মর্ম উদ্ধার করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

যাইহোক, আবদুল করিম মুশতাক সর্বশেষ তারিখে ইবনে আসাকিরের বরাতে যে ঘটনা উল্লেখ করল, সে উক্ত বর্ণনার রেফারেন্স লেখেছে ৩য় খন্ডের ১১৯ পৃ.। অথচ এই বর্ণনা পেয়েছি ৫২তম খন্ডের ৩৬৪ পৃ.। এই বর্ণনা উল্লেখের পর ইবনে আসাকির রহ. মন্তব্য করেন যে, ‘هذا حديث منكر وإسناده مظلم’ এটা মুনকার বা অগ্রহণযোগ্য বর্ণনা। এর সনদ অন্ধকারচ্ছন্ন। এছাড়া লিসানুল মিযান থেকেও তিনি বর্ণনাটি উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন যে, একই বর্ণনা হাফেয জাহাবি লিসানুল মিযান গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। অথচ লিসানুল মিযান গ্রন্থটি ইবনে হাজার আসকালানি রহ. রচনা করেছেন। ইবনে হাজার রহ. এই বর্ণনা উল্লেখের পর ইবনে আসাকির রহ. উক্ত মন্তব্যটি উল্লেখ করেন।[4]

অতএব আহলুস সুন্নাহর কিতাবে যে, তাদের কথিত কালিমা “لا اله الا الله محمد الرسول الله علي ولي الله” রয়েছে, এ দাবিটি সর্বৈব মিথ্যা। সঙ্গে সঙ্গে আবদুল করিম মুশতাকের হক গোপন ও প্রতারণার সুস্পষ্ট নিদর্শন। অথচ তিনি শিয়াদের সর্বচ্চ উপাধিধারী আয়াতুল্লাহিল উজমা।

অনুরূপ আলি হায়দার নাকবি স্বীয় ‘আদইয়ানে আ’লম আওয়ার ফিরকায়ে ইসলাম’ গ্রন্থেও “শিয়া আওয়ার সুন্নি কালিমা মে ফরাক” বা শিয়া ও সুন্নি কালিমার মধ্যে পার্থক্য শিরোনামে “ لا اله الا الله محمد الرسول الله، علي ولي الله، وصي رسول الله وخليفة بلا فصل ”  কালিমাটি উল্লেখ করেন। অবশ্য এই একই কালিমা উসুলুশ শরিয়া ফি আকায়িদিশ শিয়া গ্রন্থে তিন অংশ তথা لا اله الا الله محمد الرسول الله علي ولي الله হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।[5]

আমার দাবি আজ অবধি শিয়ারা ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে তাদের কালিমাই সাব্যস্ত করতে পারে নি। বিশেষত তারা যে কালিমার দাবি করে, এটা পুরোটাই বানোয়াট; নিজেদের মনগড়া। যদি আমার দাবি মিথ্যা হয়, তবে তাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ রইলো তাদের উসুলে আরবায়া বা মূল চারটি হাদিসের কিতাব থেকে এর একটা প্রমাণ উত্থাপন করুক। আর আমাদের কালিমা বানোয়াট কোনো কালিমা নয়। সরাসরি রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কালাম। ইসলামের পঞ্চভিত্তির প্রথম ভিত্তি আল্লাহর রাসুল এ শব্দে উল্লেখ করেন যে, ” شهادة أن لا إله إلا الله ، وأن محمدا رسول الله ” অর্থাৎ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ—এর সাক্ষ্য প্রদান করা। তাওহিদ ও রিসালাতের সাক্ষ্যটি এতোটা গুরুত্বপূর্ণ যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “ أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى : يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ ” আমাকে ততক্ষণ অবধি যুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ না তারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’—এর সাক্ষ্য দেয়।[6] আরেক হাদিসে এসেছে: “ ادْعُهُمْ إِلَى شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ ” তোমরা লোকদের লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ—বাক্যদ্বয়ের বিশ্বাসের প্রতি আহ্বান করো।[7] কিন্তু শিয়ারা কিয়ামত অবধি তাদের কালিমা এই শব্দে তাদের কোনো হাদিসের কিতাব থেকে উল্লেখ করতে সক্ষম হবে না। এমনকি শিয়ারা যে আযানের মধ্যে اشهد ان محمدا رسول الله (আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ) এরপর اشهد ان عليا ولي الله (আশহাদু আন্না আলিয়্যুন ওলিউল্লাহ) বলে থাকে, শায়েখ সুদুকের ভাষায় এটা অভিশপ্ত চরমপন্থীদের হাতে বানানো। তিনি আযানের বাক্যগুলো লেখে বলেন: এটাই বিশুদ্ধ আযান। এরমধ্যে বৃদ্ধি পাবে না, কমও হবে না। এরপর তিনি লেখেন:

والمفوضة لعنهم الله قد وضعوا أخباراً وزادوا في الأذان: محمد وآل محمد خير البرية مرتين، وفي بعض رواياتهم بعد اشهد أن محمد الرسول الله “اشهد أن عليا ولي الله” مرتين  ومنهم من روى بدل ذلك: اشهد أن عليا امير المؤمنين حقا.

কিছু মুফাওবিদা[8] তথা অতিরঞ্জনকারী—আল্লাহ তাদের উপর অভিশাপ বর্ষণ করুন—তারা কিছু হাদিস বানিয়ে আযানের মধ্যে محمد وآل محمد خير البرية তথা মুহাম্মদ ও তার পরিবার সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম (২বার) সংযোজন করেছে। কোনো কোনো বর্ণনায় اشهد ان محمدا رسول الله (আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ) এরপর اشهد ان عليا ولي الله (আশহাদু আন্না আলিয়্যুন ওলিউল্লাহ)—তথা আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আলি আল্লাহর ওলি—বৃদ্ধি করেছে আবার কোনো বর্ণনায় উক্ত বাক্যের পরিবর্তে اشهد أن عليا امير المؤمنين حقا (আশহাদু আন্না আলিয়্যান আমিরিল মু’মিনিনা হাক্কান)—তথা আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আলি প্রকৃতপক্ষে মুমিনদের আমির।

এরপর লেখেন:

لا شك في أن عليا ولي الله وأنه أمير المؤمنين حقا وأن محمدا خير البرية، لكن ليس ذلك في أصل الأذان، وإنما ذكرت ذلك ليعرف بهذ الزيادة المتهمون بالتفويض، المدلسون أنفسهم في جملتنا.

এতে সন্দেহ নেই যে, আলি আল্লাহর ওলি, তিনি প্রকৃতপক্ষে মুমিনদের আমির এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম; কিন্তু এগুলো মূলত আযানের অংশ না। আমি এটা এ কারণে উল্লেখ করলাম—মুফাওয়াদারা যে নিজেদের পরিচয় গোপন করে আমাদের মধ্যে মিশে এই অতিরিক্ত কথা আযানের মধ্যে ঢুকিয়ে দিল; তাদের যেন চিহ্নিত করা যায়।[9]

বর্তমান পৃথিবীর কোনো শিয়া নেই, যারা আযানের মধ্যে উপরোক্ত বাক্য উল্লেখ করে না। এসব শিয়াদের মুখোশ খোদ শায়েখ সুদুকই উন্মোচন করে দিয়েছেন, যিনি তাদের মান্যবর মুহাদ্দিস এবং তার উক্ত কিতাব তাদের মৌলিক চার কিতাবের অন্যতম।

আমরা যখন শিয়াদের কিতাবেই দেখতে পেলাম যে, তারা নিজেদের থেকে বাড়িয়ে আযানের বাক্য বলে, তারা নিজেদের থেকে কালিমা বানাবে না তো কে বানাবে? এই বানোয়াট কালিমাকে পূর্ণ ঈমানের জন্য শর্ত হতে পারে? পূর্ব যুগে ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানরা যে তাদের নবিদের কিতাব ও ধর্ম বিকৃত করেছিল, তাদের সঙ্গে আর এই শিয়াদের সঙ্গে পার্থক্য কী? এই বিকৃতিই ছিল কী তাদের মিশন?


[1] কাদিয়ানিরাও বলে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ; কিন্তু তাদের কাছে মুহাম্মদ বলতে গোলাম আহমদ কাদিয়ানি উদ্দেশ্য। শিয়ারা আহলুস সুন্নাহকে কালিমার ক্ষেত্রে কাদিয়ানির সঙ্গে তুলনা করল। অর্থাৎ ওদের মতো আমরাও কাফের।

[2] শিয়া মাজহাব হক হে: ৩২৪-৩২৫ পৃ.।

[3] এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন ইত্তিহাদ পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত লেখকের ‘বাতেনিদের ইতিহাস’ গ্রন্থ।

[4] লিসানুল মিযান: ৫/১৪৭। (হিন্দুস্তানি নুসখা)

[5] উসুলুশ শরিয়া ফি আকায়িদিশ শিয়া: ৪২২ পৃ.।

[6] সহিহুল বুখারি: হা.নং-২৫, সহিহ মুসলিম: হা.নং-২২। হাদিসের পূর্ণপাঠ:

أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى : يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ ، وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ ، وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ ، فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ ، إِلَّا بِحَقِّ الْإِسْلَامِ ، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ

[7] সহিহুল বুখারি: হা.নং-১৩৯৫, সহিহ মুসলিম: হা.নং-১৯। হাদিসের পূর্ণপাঠ:

ادْعُهُمْ إِلَى شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ ، فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذَلِكَ ، فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ قَدْ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ ، فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذَلِكَ ، فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً فِي أَمْوَالِهِمْ ، تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ وَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ

[8] মুফাওয়িদারা বলে থাকে আল্লাহ তায়ালা আলিকে সৃষ্টি করে তার উপর দুনিয়ার সৃষ্টি ন্যাস্ত করেছে আর তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন।

[9] মান লা ইয়াযারুহুল ফকিহ: ১/২৯০-৯১।



Leave a comment