শিয়া ও আমাদের রবের মধ্যে পার্থক্য
১ম পর্ব
পাঠক! শিরোনাম দেখে হয়তো চমকে উঠেছেন। কিন্তু এই শিরোনাম আমার আকিদা নয়। আমার আকিদা ও বিশ্বাসতো এটাই যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সমস্ত মানুষ ও সব জাতির স্রোষ্টা। তিনিই সবার ইলাহ। তিনিই রাজাধিরাজ ও সবার উপর কতৃত্বশীল। এটাতো মুশরিকদেরও আকিদা! আল্লাহ তায়ালা বলেন: যদি আপনি ওদের (মুশরিকদের) জিজ্ঞেস করেন: কে ওদের সৃষ্টি করেছেন? অবশ্যই তারা বলবে আল্লাহ। অতঃপর তারা কোথায় ফিরে যাচ্ছে?[1] অথচ শিয়ারা এই সৃষ্টিকর্তা ও রবকে পৃথক করে কেবল আহলুস সুন্নাহর বিরোধিতার জন্য। সপ্তদশ শতাব্দীর অন্যতম শিয়া মুজতাদি আলেম সাইয়্যেদ নিয়ামাতুল্লাহ আল জাযায়িরি—যিনি শিয়াদের কাছে আল ইমামুল আদিল ওয়াল কামিল এবং রইসুল উলামা হিসেবে পরিচিত—তিনি বলেন যে, আহলুস সুন্নাহর সঙ্গে আমরা কোনোদিক থেকেই একমত নই। না তাদের রবের ওপর, না নবি না ইমামের ওপর। কেননা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের রব তিনি, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার নবি আর আবু বকর তার খলিফা। তবে রব ও নবি সম্পর্কে আমরা এমনটা বলি না। বরং বলি নবির খলিফার ব্যপারে। কেননা নবির খলিফাই রব। আর আবু বকর না আমাদের রব না তার নবি আমাদের নবি ন।[2]
এই উক্তিটা এতো জঘন্য যে, সাইয়িদ হুসাইন মুসাবি জাযায়িরির নাম গোপন করে ইমাম খোয়ির কাছে এ মত ব্যক্তকারীর সম্পর্কে তার মতামত জিজ্ঞেস করলে তিনি তাকে কাফের হিসেবে আখ্যায়িত করলেন। অথচ নিজদের মান্যবর আলেমের নাম শুনতেই চুপসে গেলেন এবং তাকফির থেকে বিরত থাকলেন। এ মুহূর্তে উক্ত উক্তির কারণে যদি জাযায়িরিকে তাকফির করতে বলা হয়, তবে একজনও তাকে কাফের হিসেবে স্বীকৃতি দিবে না। আর তাকে তাকফির না করাইতো তার উক্তি মেনে নেওয়া।
[1] সুরা যুখরুফ: ৪৩:৮৭।
[2] আল আনওয়ারুন নুমানিয়্যাহ: ২/২৪৩।

Leave a comment