শিয়াদের তাওহিদ লঙ্ঘন

২য় পর্ব

(১ম পর্বের লিংক: https://wp.me/pgP0Ho-5X )

শাহাদাতাইন অস্বীকার

শাহাদাতাইন তথা তাওহিদ ও রিসালাতের সাক্ষি অর্থাৎ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। এই শাহাদাহ ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের প্রথম স্তম্ভ। বরং এটাই প্রধান স্তম্ভ। কেননা বাকিগুলো এটার উপর নির্ভরশীল। তাই এই শাহাদাহ—এর বিশ্বাস ছাড়া কেউ মুসলমান হতে পারবে না।

অবশ্য শিয়ারাও পঞ্চস্তম্ভে বিশ্বাসী। কিন্তু তাদের সেই স্তম্ভের মধ্যে শাহাদাহ স্থান পায় নি। বরং শাহাদার স্থানে তারা আলির বেলায়েতকে স্থান দিয়েছে। তাদের পঞ্চম ইমাম মুহাম্মদ আল বাকের থেকে বর্ণনা করা হয়, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি: ১. সালাত, ২. সাওম, ৩. হজ, ৪. যাকাত ও ৫. বেলায়েত। আর বেলায়েতের মতো কোনো কিছুর প্রতি আহ্বান করা হয় নি।[1]

আরেক বর্ণনায় ইসলামের পঞ্চম ভিত্তি হিসেবে বেলায়েত উল্লেখ করার পর লেখেন: ولم يناد بشيئ كما نودى بالولاية، فاخذ الناس بأربع وتركوا هذه يعني الولاية এরমধ্যে বেলায়েতের জন্য যেভাবে আহ্বান করা হয়েছে, অন্যান্য স্তম্ভের জন্য সেভাবে আহ্বান করা হয় নি। কিন্তু মানুষ (অপ্রয়োজনীয়) চারটাকে গ্রহণ করেছে, আর (মূল স্তম্ভ) বেলায়েতকে ছেড়ে দিয়েছে।[2]

এ সম্পর্কিত আরো অনেক হাদিস রয়েছে। যা একথাই প্রমাণিত করে যে, শিয়াদাতের কাছে শাহাদাতাইনের চেয়ে বেলায়েতের গুরুত্ব বেশি। তাই রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে প্রধান স্তম্ভ হিসেবে সাব্যস্ত করেছিলেন, তাকে তারা ছুড়ে ফেলে প্রধান হিসেবে আরেকটা বানিয়ে নিয়েছে।

ইমামগণ হাজির ও নাজির

হাজির ও নাজির শব্দ দ্বারা উদ্দেশ্য এমন কেউ, যিনি সব জায়গায় উপস্থিত এবং সার্বক্ষণিক সবকিছু দেখেন। এই গুনটি কেবল আল্লাহ তায়ালার সঙ্গেই খাস। কিন্তু শিয়াদের বিশ্বাস হাজির নাজির আলি রাদি. ও তার পরিবারের এর সিফাত। মোল্লা বাকের মাজলিসি লেখেন: শিয়া সুন্নি এ ব্যাপারে একমত[3] যে, হাজির নাজির হওয়া মুহাম্মদ ও আলে মুহাম্মদের গুন। আর এটা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে প্রদত্ত গুন। এরপর মাজলিসি লেখে: রাসুলের যুগে আলি রাদি.-কতৃক একসঙ্গে চল্লিশ জায়গায় উপস্থিত থাকার প্রমাণ রয়েছে। আলি আ. বলেন: মুমিন, মুনাফিক, কাফের ও মুশরিক—কোনো মানুষ এমন নেই, যার মৃত্যুর সময় আমি উপস্থিত না হই। আলি সর্বত্রই বিদ্যমান। যমিনের যে স্থানেই হোক না কেনো, যতক্ষণ তিনি উপস্থিত না হয়ে মৃত্যুর নির্দেশ না দেন, ততক্ষণ অবধি জান কবজ করা হয় না। মুনকার নাকির প্রশ্নও শুরু করে মাওলা আলির নির্দেশে। সেখানে সে প্রশ্ন করে, তোমার রব কে? রাসুল কে? দ্বীন কি? কেবলা কোনটা? তোমার ইমাম কে? …. তখন মাইয়েত আলি রাদি. থেকে ইমাম মাহদি আ. পর্যন্ত সমস্ত ইমামের নাম বলে দেয়।[4]

আলি খোমিনি ১২তম ইমাম মাহদিকে সম্পর্কে বলেন যে, তিনি হাজির ও নাজির। তিনি আমাদের অবস্থান ও যাচাইপ্রক্রিয়া দেখেন। তোমাদের পুরুষ মহিলারা বিভিন্ন ময়দানে থাকা সত্ত্বেও তিনি দেখেন।[5] রুহুল্লাহ খোমিনির বিভন্ন বক্তৃতা, বই ও চিঠি থেকে সংকলনকৃতগ্রন্থ—আল মায়াদ ফি নাজরিল ইমাম আল খোমিনাই—গ্রন্থে রয়েছে: আমিরুল মুমিনিন মুমিন, কাফের ও মুনাফিক—সবার মৃত্যুকালেই উপস্থিত থাকেন।[6]

তাছাড়া রুহুল্লাহ খোমিনির দাবি যে, তাদের আমল সপ্তাহে দু’ বার সাহিবুজ্জামান তথা ইমাম মাহদির কাছে পেশ করা হয়।[7] একই কথা বলেছেন আলি খোমিনি। “ إننا نعتقد أن الإمام المهدى ناظر إلى أعمالنا و سلوكِيّتنا وأن أعمالُنا تُعرضُ عليه ” আমাদের আকিদা ইমাম মাহদি আমাদের আমল ও আচরণ দেখেন। আর আমাদের আমল তার কাছে পেশ করা হয়।[8]


[1] আল কাফি: ২/১৫, আল খিসাল: ২৭৭ পঞ্চম অধ্যায় হা.নং: ২১, আল আমালি লিল মুফিদ: ৩৫৩ পৃ. ৪২ তম মজলিস, হা.নং: ৪, আল আমালি লিততুসি: ১২৪ পৃ. পঞ্চম মজলিস হা.নং: ৫, আল ওয়াফি: ৪/৮৭ হা.নং: ১৬৯৪, ওসায়িলুশ শিয়া: ১/১৭ হা.নং: ১০,  বিহারুল আনোয়ার: ৬৮/৩২৯ হা.নং ১, মীজানুল হিকমাহ: ৪৫ পৃ. হা.নং: ২৮৫ (বাঙালী শিয়াদের বৃহত্তম হাদিসের কিতাব)।

[2] আল কাফি: ২/১৫, আল ওয়াফি: ৪/৮৮ হা.নং: ১৬৯৬, ওসায়িলুশ শিয়া: ১/১৩, বিহারুল আনোয়ার: ৬৮/৩২৯। মাজলিসি এ হাদিসগুলোকে সহিহ বলেছেন। দেখুন মিরয়াতুল উকুল: ৭/১০০ থেকে..।

[3] আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা হাজির নাজির একমাত্র আল্লাহ তায়ালার সিফাত। কোনো মাখলুক এ গুনে গুনান্বিত হতে পারে না। কথিত তাসাওউফধারী বিদআতিদের মতে নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজির ও নাজির। মূলত এসব সুফিরা শিয়া; শুধু তাকিয়াবশত সুন্নি নাম ধারণ করেছে। এসব সুফিদের আলোচনা স্বতন্ত্র অধ্যায়ে আসবে উন শা আল্লাহ। তাই মাজলিসির এই সুন্নি দ্বারা শিয়া আকিদাধারী কথিত সুন্নি সুফি উদ্দেশ্য। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাধারী কেউ নন।

[4] জিলাউল উয়ুন: ২/৮৫।

[5] আল মাহদুবিয়্যাহ: ১৯ পৃ.।

[6] ১৭৭ পৃ.।

[7] আল মাআদ: ৩৬৮ পৃ.।

[8] আল মাহদুবিয়্যাহ: ১৮ পৃ.।



Leave a comment