শিয়াদের তাওহিদ লঙ্ঘন

৩য় পর্ব

(২য় পর্বের লিংক: https://wp.me/pgP0Ho-62 )

রব আলি, নবিগণ তার কাছেই সাহায্য কামনা করতেন

শিয়াদের বিশ্বাসমতে কুরআনুল কারিমের যত জায়গায় রব শব্দ রয়েছে, এরদ্বারা উদ্দেশ্য আলি রাদি.। মোল্লা বাকের মাজলিসি জিলাউল উয়ুন গ্রন্থে “সমস্ত নবিই আলিকে ডেকেছে”—মর্মে একটি শিরোনাম এনেছেন। সেখানে দাবি করেন, প্রত্যেক নবি রব বলে সাহায্য প্রার্থনা করে যে দোয়া করেছে এরদ্বারা উদ্দেশ্য আলি রাদি.। যেমন: আদম আ. বলেছিলেন: “رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ” হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের উপর যুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের উপর দয়া না করেন, তবে আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভূক্ত হবো।[1] নুহ আ. এর দোয়া যেমন: وَنَادَىٰ نُوحٌ رَّبَّهُ[2] হযরর ইবরাহিম আ. এর বাণী:  إِنِّي ذَاهِبٌ إِلَىٰ رَبِّي سَيَهْدِينِ আমি আমার রবের দিকে চললাম, তিনি আমাকে পথপ্রদর্শন করবেন।[3] অনুরূপ আইয়ুব আ. তার বিপদে, যাকারিয়া আ. তার সন্তান কামনায় এবং মুসা, ঈসা আলাইহিমাস সালামসহ অন্যান্য নবিরা মুসিবত ও অন্যান্য মুহূর্তে যে রবকে ডেকেছিলেন, সে রব দ্বারা উদ্দেশ্য হযরত আলি রাদি.। এই অধ্যায়ের সর্বশেষ লেখে: রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সাকিয়ে হাউজে কাওসার তথা হাউজে কাওসারে পানি পান করানেওয়ালা মাওলা আলি আ.। অর্থাৎ কুরআন যাকে রব বলেছে, সে সাকিয়ে কাউসার আলি। নবিরা দাওয়াত দিয়েছে—তাওহিদ, মাবুদ ও আল্লাহর; তবে যখন বিপদে পতিত হয়েছে, তখন ডেকেছে আলিকে। এখনো বিপদের সময় আলিকে ডাকা নবিদের সুন্নাত ও কুরআনী রীতি। আর রব অর্থ পালনকর্তা, তত্ত্বাবধায়ক ও বিপদআপদে মুক্তিদাতা।[4]

মাজলিসি আরো লেখেন যে, আলে মুহাম্মদ বাকিয়াতুল্লাহ। তাদের আসমান ও যমিনের রক্ষাকর্তা বানানো হয়েছে। কেবল মুমিনরাই বিপদ-আপদে তাদের ডাকে আর যে মুমিন নয় সে অস্বীকার করে।[5]

শিয়াদের মুখে কিংবা কিতাবাদির শুরুতে একটি বাক্য দেখা যায় ‘ইয়া আলি মদদ।’ এটা সুফিদের মাধ্যমে এতোটা প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল যে, মানুষের মুখে মুখে ছিল। অর্থাৎ হে আলি সাহায্য করো। আবদুল করিম মুশতাক লেখে: রিযিক, সুস্থতা, সন্তান কামনা থেকে শুরু করে যে কোনো প্রয়োজনে মাওলায়ে মুশকিল কুশা আলি আলাইহিস সালামের কাছে সাহায্য কামনা করা শিরিক নয়, বরং নবিদের সুন্নাত। শুধু তাই নয়, আলির কাছে সাহায্য কামনা করা শেষ নবির তরিকা।[6] আবদুল করিম মুশতাক ‘আলি কি ইমদাদ শামিলে হাল হে’ তথা আলির সাহায্য সার্বক্ষণিক সঙ্গী নামক একটি কিতাবই লেখেছে।

আমরা আগে মুরুব্বিদের মুখে মুখে শুনতাম দোহাই অমুক, দোহাই তমুক—অর্থাৎ প্রত্যেকেই স্বীয় পীরের নাম নিতো। এখনো দোহাই সোলেমান (ন্যাংটা পীর) অনেকের মুখে কিংবা গানে স্থান পায়। বর্তমান বিকৃত সুফিবাদ যেহেতু শিয়া প্রভাবিত—বরং বলা যায় তাকিয়া বশত সুন্নি নাম ধারণ করে শিয়া আকিদা প্রচারের মাধ্যম; এই সুফিদের বিশ্বাসই হলো এ সুফিধারা আলির বাতেনি বেলায়েত থেকে গৃহিত। শিয়ারা যেহেতু তাদের ইমাম বিশেষত আলি রাদি.-কে কেন্দ্র করে সাহায্য চেয়ে থাকে, বর্তমান মাজার কেন্দ্রিক সুফিবাদি দরবারে কবরের কাছে চাওয়া, মান্নত করা কিংবা সাহায্য প্রার্থনার যে রেওয়াজ, তা ওই ওখান থেকেই গৃহিত।

রুহুল্লাহ খোমিনির বিশ্বাসমতেও কুরআনে বর্ণিত রব দ্বারা উদ্দেশ্য ইমামগণ। সুরা রা’দের দ্বিতীয় আয়াত “يُدَبِّرُ الْأَمْرَ يُفَصِّلُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ بِلِقَاءِ رَبِّكُمْ تُوقِنُونَ ” অর্থাৎ তিনি যাবতীয় বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি এসব নিদর্শনাবলী সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাস করতে পারো যে, একদিন তোমাদের স্বীয় রবের সঙ্গে মিলিত হতে হবে।” খোমিনির ভাষ্যমতে এখানে রব দ্বারা উদ্দেশ্য ইমামগণ।[7] অথচ আল্লাহ তায়ালা পুরো আয়াতে স্বীয় কুদরাতের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন—এগুলো এ কারণে বর্ণনা করেছি যেন তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাস করতে পারো তিনিই যাবতীয় বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন…। আয়াতের শুরু অংশ দেখলেও বিষয়টা স্পষ্ট হয়। “اللَّهُ الَّذِي رَفَعَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ” (আল্লাহ ওই সত্ত্বা যিনি আসমানকে উঁচুতে স্থাপন করেছেন—তোমরা দেখো স্তম্ভ ছাড়া।) আল্লাহ তায়ালা স্বীয় কুদরাতের বর্ণনা দিচ্ছেন যেন আমাদের ঈমান মজবুত হয় এবং তার সাক্ষাতে দৃঢ় বিশ্বাসী হই, গায়েব বলে প্রত্যাখ্যান না করি। খোমিনির ভাষায় আল্লাহ স্বীয় কুদরতের বর্ণনা দিচ্ছেন যেন আমরা ইমামদের সাক্ষাত পাওয়ার বিষয় দৃঢ় বিশ্বাসী হতে পারি।


[1] সুরা আ’রাফ: ৭:২৩।

[2] সুরা হুদ: ১১:৪৫।

[3] সুরা সাফফাত: ৩৭:৯৯।

[4] জিলাউল উয়ুন: ২/৬৩-৬৬।

[5] প্রাগুক্ত: ২/৮৮।

[6] হাতি কে দাঁত খানে কে আওয়ার দেখানে কে: ২/৪১

[7] মিসবাহুল হিদায়া ইলাল খিলাফাতি ওয়াল বিলায়া: ১৫৫ পৃ.।



Leave a comment