শিয়াবাদের অসারতা

(২য় পর্ব)

(১ম পর্বের লিংক: https://wp.me/pgP0Ho-5F)

মূল

ইমামে আহলুস সুন্নাহ আবদুশ শাকুর ফারুকি লাখনবি রহ.

অনুবাদ, তাখরিজ ও তা’লিক

মাহদি হাসান কাসেমি

১৬. বিশ্বব্যাপী ইসলাম প্রচার ও প্রসারে সাহাবায়ে কিরাম অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। তারা এমন এক সংকটময় সময়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, যখন ইসলাম গ্রহণের অর্থই ছিল নিজেকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া। তৎকালীন বাহ্যিক অবস্থা ও পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসলাম বিজয়ের কোনো লক্ষণও পরিলক্ষিত হচ্ছিল না। তবুও তারা বছরের পর বছর ভয়াবহ নির্যাতন ও অসহনীয় কষ্ট সহ্য করেছেন। এ দ্বীনের জন্য তারা নিজেদের ঘর-বাড়ি পরিত্যাগ করেছেন, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন এবং কাফেরদের বৃহৎ বৃহৎ জনপদ জয় করে ইসলামের পতাকা সমুন্নত করেছেন। তারা তেইশ বছর দিন-রাত সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্যে কাটিয়েছেন। এসব মহামনীষীদের সংখ্যা ছিল লক্ষাধিক।

অথচ তাদের সম্পর্কে এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, তারা সবাই ইসলামের শত্রু ছিলেন; দুনিয়ার লোভে অন্তরে মুনাফিক ও বাইরে মুসলমান সেজে ছিলেন; রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর তিনজন ছাড়া সবাই মুরতাদ হয়ে গিয়েছিলেন; কুরআন বিকৃত করেছিলেন এবং সেই বিকৃত কুরআনই বিশ্বময় প্রচার করেছিলেন; নবিজির কন্যাকে প্রহার করে তার গর্ভপাত ঘটিয়েছিলেন, এমনকি তাকে হত্যা পর্যন্ত করেছিলেন; রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তেইশ বছরের সঙ্গ তাদের ওপর সামান্যতম প্রভাবও ফেলতে পারেনি। এ ধরনের বিশ্বাস কোন বিবেক গ্রহণ করতে পারে?

১৭. নিজেদের কথিত ইমামদের সম্পর্কে এই বিশ্বাস রাখা যে, তারা মাসুম তথা নিস্পাপ, তাদের আনুগত্য ফরজ, তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমমর্যাদাসম্পন্ন এবং অন্যান্য সকল নবির চেয়েও শ্রেষ্ঠ; অথচ এতসব গুণ থাকা সত্ত্বেও তারা নবি নন! এ ধারণা কোন বিবেক মোতাবেক?

১৮. ইমামদের সম্পর্কে এই বিশ্বাস রাখা যে, তারা ঊরু থেকে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাদের কপালে বিভিন্ন আয়াত লিখিত থাকে; এসব কোন বিবেকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

১৯. ইমাম মাহদির ব্যাপারে এই বিশ্বাস রাখা যে, তিনি চার বছর বয়সে কুরআনুল কারিম ও সমস্ত বরকতসহ অন্তর্ধান করেছেন; সুন্নিদের ভয়ে গুহায় আত্মগোপন করেছেন; এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে সেই গুহাতেই অবস্থান করছেন; অথচ পৃথিবীর কোনো মানুষই তাকে দেখতে পায় না! এ বিশ্বাস কোন যুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত?

বি.দ্র. ইমাম মাহদি সংক্রান্ত এ ধরনের যাবতীয় বিশ্বাস বিবেকবর্জিত। প্রশ্ন হলো, বর্তমানে এমন কী ভয় রয়েছে, যার কারণে তিনি এখনো আত্মপ্রকাশ করছেন না? মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানি প্রকাশ্যে নবুয়তের মিথ্যা দাবি করেছে, নিজেকে অন্যান্য নবির চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলে প্রচার করেছে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের মর্যাদায় আঘাত হেনেছে, মিথ্যা ভবিষ্যদ্বাণী করেছে এবং তার বিরোধী সকলকে কাফের আখ্যা দিয়েছে। অথচ কথিত ইমাম মাহদির ব্যাপারেও অনুরূপ বহু দাবি করা হয়—তিনি নিজেকে সকল নবির চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করেন, সাহাবায়ে কিরামের সমালোচনা করেন, ভবিষ্যদ্বাণী করেন, নিজেকে মাসূম ও আনুগত্যের ক্ষেত্রে অপরিহার্য বলে গণ্য করেন, বিরোধীদের জাহান্নামি বলেন; সঙ্গে সঙ্গে কুরআনের ব্যাপারে বিতর্কিত বক্তব্যের সঙ্গেও তাকে সম্পৃক্ত করা হয়। যদি এমনই হয়ে থাকে, তবে প্রশ্ন জাগে—মির্জা গোলাম আহমদ প্রকাশ্যে এসব প্রচার করতে পেরেছে, অথচ তার এত কীসের ভয় যে, তিনি এখনো আত্মপ্রকাশ করছেন না[1]?

২০. ইমামদের সম্পর্কে এই বিশ্বাস রাখা যে, তাদের কাছে হযরত মূসা আলাইহিস সালামের লাঠি, হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের আংটি, বড় বড় মুজিজা বা অলৌকিক নিদর্শন এবং জিনদের বিশাল বাহিনী রয়েছে; তারা নিজেদের মৃত্যুর সময় জানেন এবং মৃত্যুও তাদের ইচ্ছাধীন—বিশেষত হযরত আলি রাদি. সম্পর্কে এই বিশ্বাস রাখা যে, তিনি এমন অসাধারণ শক্তির অধিকারী ছিলেন, যা দ্বারা জিবরিলের মতো শক্তিশালী ফেরেশতারও মূল উৎপাটন করতে সক্ষম—তাহলে একই সঙ্গে এ বিশ্বাস রাখা কীভাবে সম্ভব যে, সাহাবায়ে কিরাম কুরআন বিকৃত করেছেন, ফাদাকের জমি ছিনিয়ে নিয়েছেন, হযরত ফাতিমা রাদি.-কে আঘাত করে তার গর্ভপাত ঘটিয়েছেন, তাকে শহিদ করেছেন, হযরত আলি রাদি. -এর কন্যাকে ছিনিয়ে নিয়েছেন[2], তার গলায় রশি বেঁধে টেনেছেন এবং জোরপূর্বক বাইআত গ্রহণ করেছেন; অথচ তিনি কোনো প্রতিরোধ করেননি, কোনো মুজিজাসদৃশ নিদর্শন প্রদর্শন করেননি, জিনবাহিনী ব্যবহার করেননি, এমনকি এ কথাও বিবেচনা করেননি যে তার মৃত্যুর সময় নির্ধারিত এবং মৃত্যু তার নিয়ন্ত্রণাধীন! এসব পরস্পরবিরোধী বিশ্বাসকে কোন বিবেক সমর্থন করতে পারে?

২১. এত শক্তি ও ক্ষমতার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও এ বিশ্বাস রাখা যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলি রাদি.-কে এ মর্মে অসিয়ত করেছিলেন—“লোকেরা কুরআন বিকৃত করুক, কাবা ধ্বংস করে দিক কিংবা তোমাদের সম্মান পদদলিত করুক; তবুও তুমি ধৈর্য ধারণ করবে এবং নীরব থাকবে”—এমন বিশ্বাস কোন বিবেকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

চলবে….


[1] অথচ ইরানে এখন তার অনুসারিদেরই ক্ষমতা চলছে!

[2] হযরত আলি ও ফাতেমার মেয়ে উম্মে কুলসুম—যার বিয়ে হয়েছিল হযরত উমর রাদি. এর সঙ্গে। হযরত আলি রাদি. নিজে উপস্থিত থেকে এ বিয়ে সম্পাদন করেছিলেন। এর মাধ্যমে তাদের মধ্যকার ঘনিষ্টতা অনুধাবিত হয়। অথচ শিয়ারা এ অন্তরঙ্গতা অস্বীকার করে তাদের মধ্যে শত্রুতা সাব্যস্তের জন্য দাবি করে যে, উমর রাদি. উম্মে কুলসুমকে ছিনতাই করেছে। তাদের মুহাদ্দিসরা বলে যে, এটা এমন যৌনাঙ্গ, যা আমাদের থেকে ছিনতাই হয়ে গেছে।



Leave a comment